দেখে নিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যেসব ফুটবলার!

সিরি ‘আ’, লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, জার্মান বুন্দেসলিগা, লিগ ওয়ান ইতিমধ্যেই থমকে গেছে। ক্লাবগুলোও ভীষণ সতর্ক। সংক্রমণ এড়াতে বিধিনিষেধ ও নানা নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তার পরেও খেলোয়াড়দের বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। করোনাভাইরাস বিশ্বে মহামারি হয়ে ওঠায় স্থবির এখন ক্রীড়াঙ্গন। থেমে গেছে ফুটবলও। বন্ধ হচ্ছে একের পর এক টুর্নামেন্ট।

এ পর্যন্ত কোনো কোন ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন? আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক!

টিমো হুবার্স (হ্যানোভার, জার্মানি)
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া প্রথম পেশাদার ফুটবলার তিনি। জার্মান ফুটবলে দ্বিতীয় স্তর ‘টু বুন্দেসলিগা’র দল হ্যানোভারের ডিফেন্ডার হুবার্স। হ্যানোভারই তাঁর শরীরের করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এতেই একটা ‘প্রথমে’ নাম লিখিয়েছেন হুবার্স। যে প্রথম কেউই এখন হতে চায় না।

ক্যালাম হাডসন ওডোই (চেলসি, ইংল্যান্ড)
চেলসির এই উইঙ্গারের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হলেও আশার বিষয়, সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। নিজেই সেটা জানিয়েছেন সবাইকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ‘সবাইকে সম্ভাষণ। অনেকেই হয়তো জানেন গত দুই দিন ধরে আমার শরীরে ভাইরাস বাসা বেঁধেছিল। তবে আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ। আমি স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুসরণ করছি ও নিজেকে সবার থেকে আলাদা রাখছি। আশা করি সবার সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি দেখা হবে, আবার মাঠে খেলতে নামতে পারব। সবাই ভালো থাকবেন।’

মিকেল আরতেতা (ম্যানেজার, আর্সেনাল)
আর্সেনালের ম্যানেজারের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আর্সেনালের এই সপ্তাহের লিগ ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে সুস্থ হয়ে উঠছেন আরতেতাও। গতকাল একটা টুইটে তিনি জানিয়েছেন, ‘সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এর মধ্যে সুস্থ অনুভব করা শুরু করেছি। আমরা অনেক বড় শত্রুর মোকাবিলা করছি। সবার সুস্বাস্থ্য এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারদের নির্দেশনা মেনে চলুন, একে অপরকে সাহায্য করুন। আমরা সবাই এই লড়াই জিতব অবশ্যই। প্রিমিয়ার লিগকে ধন্যবাদ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’

ইভানগেলোস মারিনাকিস (মালিক, নটিংহ্যাম ফরেস্ট ও অলিম্পিয়াকোসের মালিক)
সেদিন আর্সেনালের সঙ্গে ম্যাচ ছিল গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের। ম্যাচ দেখতে গিয়ে করোনা-সংক্রমিত হয়েছেন দলটির মালিক ইভানগেলোস মারিনাকিস। অনুমান করা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে হাত মেলানোর ফলেই করোনা এসেছে আর্সেনাল শিবিরে, আক্রান্ত হয়েছেন লন্ডনের ক্লাবটার কোচ মিকেল আরতেতা।

দানিয়েলে রুগানি (জুভেন্টাস, ইতালি)
সিরি ‘আ’ তে করোনাভাইরাস সংক্রমিত প্রথম খেলোয়াড় জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার দানিয়েলে রুগানি। জুভেন্টাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘রুগানিকে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থায় পৃথক্‌করণ করা হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা বাকিদের জন্যও একই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুগানি নিজেও জানিয়েছেন, ‘খবরটি আপনারা হয়তো জেনেছেন। আমাকে নিয়ে যারা চিন্তায় আছেন তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। চিকিৎসক ও সেবিকাদেরও ধন্যবাদ দিচ্ছি এই জরুরি অবস্থায় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য।’

মানোলো গাবিয়াদিনি (সাম্পদোরিয়া, ইতালি)
গাবিয়াদিনি এর আগে খেলে গেছেন জুভেন্টাস, সাউদাম্পটনের মতো ক্লাবে। ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত হওয়া দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি।

ওমর কোলি (সাম্পদোরিয়া, গাম্বিয়া)
সাম্পদোরিয়ার এই তারকা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেন গাম্বিয়ার হয়ে, সেন্টারব্যাক হিসেবে

আলবিন একদাল (সাম্পদোরিয়া, সুইডেন)
সাম্পদোরিয়ার এই তারকা মিডফিল্ডার এককালে খেলেছেন জুভেন্টাস, বোলোনিয়া, ক্যালিয়ারি ও হামবুর্গের হয়ে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুইডেনে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সতীর্থ ছিলেন বহু দিন।

আন্তোনিও লা গুমিনা (সাম্পদোরিয়া, ইতালি)
সাম্পদোরিয়ার এই স্ট্রাইকার এই মৌসুমেই এম্পোলি থেকে ধারে যোগ দিয়েছিলেন সাম্পদোরিয়ায়। ক্লাব বদল করেই যেন বিপাকে পড়েছেন তিনি!

মর্টেন থর্সবি (সাম্পদোরিয়া, নরওয়ে)
করোনা আক্রান্ত সাম্পদোরিয়ার আরেক তারকা তিনি। খেলেন মিডফিল্ডে। বহুদিন খেলেছেন ডাচ লিগের হিরেনভিনে।

ফাবিও দেপাওলি (সাম্পদোরিয়া, ইতালি)
কখনো রাইটব্যাক, কখনো মিডফিল্ডে থেকে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়া এই সাম্পদোরিয়ার এই তারকা এখন লড়ছেন শরীরে বাসা বাঁধা করোনাভাইরাসে বিপক্ষে।

বার্তোশ বেরেজিনস্কি (সাম্পদোরিয়া, পোল্যান্ড)
পোল্যান্ডের এই রাইটব্যাকও খেলেন সাম্পদোরিয়ায়। সিরি আ এর অন্যতম ধারাবাহিক রাইটব্যাকও মানা হয় তাঁকে। করোনা-পজিটিভ তারকা তিনিও।

দুসান ভ্লাহোভিচ (ফিওরেন্টিনা, সার্বিয়া)
সার্বিয়ার এই প্রতিভাবান স্ট্রাইকার গত মৌসুমে এসেছিলেন ফিওরেন্টিনায়। মূল একাদশে বেশ নিয়মিতই খেলেন তিনি। ৩০ ম্যাচ খেলে ছয় গোল করা এই স্ট্রাইকারও পড়েছেন করোনা-কবলে।

প্যাট্রিক কুত্রোনে (ফিওরেন্টিনা, ইতালি)
এসি মিলান থেকে এই মৌসুমেই যোগ দিয়েছিলেন ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটনে। সেখানে ছয় মাস থেকেই আবারও ফিরেছেন ইতালিতে, ফিওরেন্টিনার হয়ে খেলতে। সেখানেই ঘটেছে বিপত্তি। আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে।

জার্মান পেজ্জালা (ফিওরেন্টিনা, আর্জেন্টিনা)
ফিওরেন্টিনার অধিনায়ক ও আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডারও করোনার হাত থেকে রক্ষা পাননি। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের অন্যতম মূল এই ডিফেন্ডার এখন নিজেকে আলাদা করে রেখেছেন কোয়ারেন্টিনে

হুয়ুন-জুন সুক (ত্রয়, দক্ষিণ কোরিয়া)
ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিভাগের দল ত্রয়ের হয়ে খেলা দক্ষিণ কোরিয়ার এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার পড়েছেন করোনার কবলে।

লুকা কিলিয়ান (পাদেরবর্ন, জার্মানি)
জার্মানির এই ডিফেন্ডার আগে খেলতেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের একাডেমিতে।

এ ছাড়াও করোনা শরীরে সংক্রমিত হতে পারে এই আশঙ্কায় নিজেকে আলাদা রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বেঞ্জামিন মেন্ডি, আর্তুর বোরুচের মতো তারকারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *