নেইমারের স্বপ্নে বাধা করোনা আর এক আর্জেন্টাইন

করোনাভাইরাসের কারণে অন্য সবার মতো গৃহবন্দী জীবন কাটছে নেইমারেরও। ব্রাজিলে নিজ বাড়িতেই আছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে সেখানে বসে আগামী দিনের কথা ভেবে একটু কি অস্থিরও হচ্ছেন না? বার্সায় থাকলে মেসির ছায়াতেই পড়ে থাকতে হবে, তাই আড়াই বছর আগে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের ছেড়ে পিএসজিতে নাম লেখান নেইমার।

এরপর থেকেই শুরু হয় নেইমারের বার্সায় ফেরার গুঞ্জন। নেইমার নিজেও বুঝতে পারেন, বার্সা ছাড়া ঠিক হয়নি তাঁর। সুযোগ পেলেই নিজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বুঝিয়েছেন, এক নিমেষে আবারও মেসি-সুয়ারেজদের সতীর্থ হওয়ার জন্য প্রস্তুত তিনি। কিন্তু পিএসজিও নাছোড়বান্দা। বার্সেলোনার কাছ থেকে নেইমারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অনেক প্রস্তাব পাওয়ার পরেও গত পাঁচটা দলবদলের বাজারে নেইমারকে ছাড়তে রাজি হয়নি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। গত গ্রীষ্মে তো একদম সবাইকে দেখিয়েই নেইমারকে দলে টানার জন্য একদম দলবদলের শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে বার্সেলোনা। লাভ হয়নি। নেইমার থেকে গেছেন পিএসজিতেই।

এদিকে নেইমারকে আটকে রাখতে পারলেও ফরাসি ক্লাবটা বুঝেছে, নেইমারের মন পড়ে আছে বার্সাতেই। তাই ফুটবলপাড়ায় গুঞ্জন ছিল, নেইমারকে এবার অন্তত বার্সেলোনার কাছে ছেড়ে দেবে দলটা। নেইমারকে ছেড়ে দিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে সাজাবে তাঁদের দল। কিন্তু শেষমেশ এই দলবদলেও হানা দিতে পারে করোনাভাইরাস।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে। মানুষজন কাজে যেতে পারছে না, জিনিসপত্রের দাম লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দিচ্ছে, ধসে পড়ার আশঙ্কায় আছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। এই ভাইরাস আঘাত হেনেছে ফুটবলেও। খেলা বন্ধ আছে বহুদিন ধরে। ফলে ক্লাবগুলোর আয় নামতে নামতে প্রায় শূন্যের কোঠায়। খেলোয়াড়দের বেতন কেটে রাখা হচ্ছে, ছাঁটাই করা হচ্ছে কর্মীদের। করোনার প্রভাব পড়তে পারে দলবদলের বাজারেও।

গত কয়েক বছর ধরে দলবদলের বাজারে খেলোয়াড়দের দাম যেমন আকাশ ছুঁয়েছিল, বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে খেলোয়াড়দের দামও কমবে অনেক – ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এমনই অনুমান করছেন। হ্রাস পাবে ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় কেনার সামর্থ্য। কম দামে, কম বেতনে খেলোয়াড় রাখতে ও কিনতে আগ্রহী হবে বিভিন্ন ক্লাব। আর এখানেই কপালটা পুড়তে পারে নেইমারের।

নেইমারকে পিএসজি ছাড়তে রাজি হলেও অবশ্যই কম দামে ছাড়বে না। নেইমারকে কেনার সময় ঠিকই বার্সাকে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো দিয়েছিল তাঁরা, বার্সার কাছে আবার বিক্রি করার সময় তেমন কোনো একটা অঙ্কই চেয়ে বসবে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। যা বার্সাকে বাধ্য করবে অপেক্ষাকৃত কম দামি কোনো বিকল্প খোঁজার জন্য। আর এখানেই ব্রাজিলিয়ান নেইমারের বার্সায় ফেরার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে এক আর্জেন্টাইনের কারণে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, আকাশছোঁয়া দাম ও পারিশ্রমিকে নেইমারকে দলে না এনে বরং ইন্টার মিলানের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লওতারো মার্তিনেজকে দলে আনার ব্যাপারে এখন বেশি আগ্রহী বার্সা। ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকারকে বহুদিন ধরেই পছন্দ বার্সেলোনার। বার্সেলোনার বর্তমান মূল স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ নিজেও বলেছিলেন, উত্তরসূরি হিসেবে মার্তিনেজকেই দেখতে চান বার্সেলোনায়। সুয়ারেজের বয়স এখন ৩৩। বার্সেলোনায় আর বেশি দিন খেলতে পারবেন না, এটা বেশ ভালোই বোঝেন উরুগুয়ের এই তারকা।

বার্সেলোনাও গত দুই মৌসুম ধরে সুয়ারেজের বিকল্প খুঁজে যাচ্ছে। দলে আঁতোয়ান গ্রিজমান, ওসমান ডেম্বেলে, ফিলিপে কুতিনহোরা থাকলেও, তাদের মূলত খেলানো হয় উইঙ্গার হিসেবে। বার্সেলোনায় মূল স্ট্রাইকার হিসেবে সুয়ারেজ তাই এখনো অদ্বিতীয়। তবে এভাবে যে আর বেশি দিন চলবে না, ক্লাবের মতো সুয়ারেজ নিজেও জানেন সেটা। তবে ইন্টার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্তিনেজের জন্য ১১ কোটি ১০ লাখ ইউরোর এক পয়সাও কম নিতে রাজি নয় তারা।

এদিকে গত অক্টোবরে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচে দুই মিনিটের মধ্যেই গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মার্তিনেজ। ফলে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে পাওয়ার আশা বার্সার বেড়েছে বই কমেনি। মেসি নিজেও চাইছেন, মার্তিনেজ আসুক দলে।

মার্তিনেজকে আনতে হলে যা খরচ, নেইমারকে আনতে হলে তার দ্বিগুণের কাছাকাছি খসাতে হবে বার্সাকে। ওদিকে বেতনেরও একটা ব্যাপার আছে। বছরে ৭০ লাখ ইউরো বেতন দিলেই মার্তিনেজ খুশি মনে বার্সায় চলে আসবেন, যেখানে নেইমার এখন বছরে কামাই করেন ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। বার্সায় আসার জন্য নেইমারকে বড় অঙ্কের বেতন বিসর্জন দিয়েই আসতে হবে। আর তাতে যে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা রাজি হবেন, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

অবশ্য মার্তিনেজের স্বপ্নেও যে শুধু বার্সাই আছে, তা নয়। পরশুই তাঁর এজেন্ট বেতো ইয়াকে বলে দিয়েছেন, ‘লওতারো কখনোই বলেনি ও (রিয়াল) মাদ্রিদকে পছন্দ করে না।‘ দুই দিকই খোলা রাখা আর কি!

Source: prothomalo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *