অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন মাশরাফি

২০১৭ সালের এপ্রিলে আচমকাই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সেই অবসর প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন পর মুখ খুললেন নড়াইল এক্সপ্রেস। অনেকটা বাধ্য হয়েই নাকি সেই সময়ে অবসর নিয়েছিলেন তিনি।

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সফরে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দেন মাশরাফি। অবসর নিতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল কিনা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘স্রেফ আমাকে ওখানেই করতে হতো। এমন সিচুয়েশন তৈরি করা হয়েছিল যে আমাকে করতে হতো।’ বিস্তারিত না বললেও মাশরাফি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হয়েছে।’

এ সময় সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করেন মাশরাফি। ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে কেউ ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সিরিজ কভারে গিয়েছিল কিনা প্রশ্ন করলে এক সাংবাদিক জানান তিনি গিয়েছিলেন। মাশরাফি তখন আবার প্রশ্ন করেন, শ্রীলঙ্কায় আপনি কী ক্রিকেট বোর্ডের সবাইকে দেখেছিলেন? অলমোস্ট বিগ বিগ পার্সনদের। লবিতে, মিটিংয়ে? ওই সাংবাদিক ‘হ্যা’ সূচক উত্তর দিলে মাশরাফি বলেন, ‘দ্যাটস ইট।’

এ সময় তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘আমি কার থেকে সহযোগিতা পেয়েছি বলেন তো..আমার টাইমে? আমি ২০১১ বিশ্বকাপে ইনজুরিতে ডাক্তার ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পরও আমাকে নেওয়া হয়নি। আমি সহযোগিতা পাইনি। পরে আমি ২০১৭তে যখন অবসরে গেলাম তখন আমি কিন্তু এসে কাউকে বলিনি। শুধু দেশের মানুষই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মিডিয়ার মানুষও ছিল। কারণটা কী? আমি কিন্তু কিছুই বলিনি।’

বাংলাদেশ দলের সাবেক সফল অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আমি যখন শ্রীলঙ্কায় পা রেখে হোটেলে যাই, আমি তখনও ট্রাভেল স্যুটও খুলিনি, তখনই আমার সঙ্গে নিচে একটা মিটিং হয়। মিটিংয়ের পরই আমার মনে হয়, কিছু একটা গোলমাল আছে। আমি সবসময় বলে আসতাম আমরা সিদ্ধান্তগুলো কিন্তু হুট করেই হবে। আমি যখন বুঝতে পেরেছি সবার বিপরীতে থাকার প্রয়োজন নাই।’

এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একটা প্রশ্ন করতে পারেন, তখন কেন আপনি ওয়ানডে থেকে রিটার্ডমেন্টে গেলেন না? এই সিদ্ধান্তটা না নেওয়ার কারণ হলো আমিও একজন খেলোয়ার।’

আনুষ্ঠানিক অবসরের বিষয়ে বিসিবি কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কিনা বা আনুষ্ঠানিকভাবে অনেকবার কথা হলেও মাশরাফি সায় দিচ্ছেন না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কে কথা বলেছে আনুষ্ঠানিকভাবে? আনুষ্ঠানিকভাবে কোথায় হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে হলে যেটা হয়, সারা বিশ্বের আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে হয় জানেন না? আজকে পাপন ভাইয়ের দোষ কেন হবে, এখানে তো বোর্ড প্রেসিডেন্টের ডাকার কথা না। সবার আগে সিলেক্টর এবং কোচ কথা বলবে। ওকে ফাইন; তুমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ১৮-২০ বছর খেলেছো। সামনে আগাতে চাই। সামনে বিশ্বকাপে খেলবো না এটাইতো দাঁড় করানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট একটি ম্যাচ আছে। তুমি খেলে সরে যেতে পারো। যদি না খেলতে পারো, তুমি যেহেতু বলেছো যে রিটায়ার করতে পারবে না, সো তুমি তোমার কল নিতে পারো। আমরা তোমাদের অফিসিয়ালি জানিয়ে দেবো। অফিসিয়ালি মিডিয়ায় এসে জানানোর কি আছে? আপনি মিডিয়া আপনাকে অফিসিয়ালি জানাবে কেন? এটা কি কোনো প্রফেশনাল ওয়ে? আপনারা যখন প্রফেশনালের কথা বলছেন তখন প্রফেশনালের বুলিটা হলো এরকম যে, হয় কোচ কথা বলবে, না হয় সিলেক্টররা কথা বলবে, মাশরাফিকে ডাকবে এসে কথা বলবে, দেখো মাশরাফি আমাদের সিদ্ধান্ত এটা। তারপরও আমি সবসময় বলে এসেছি পাপন ভাইয়ের সাথে।’

বিশ্বকাপে অবসর বিতর্ক ঠিক কি ঘটেছিল? মাশরাফি আসলে লাস্ট ম্যাচ খেলতে চাননি, আবার হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি খেলতে চান.. এর পেছনের কারণে জানতে চাইলে ম্যাশ বলেন, ‘সাকিব ইজ দ্যা ফার্স্ট পারসন যার সামনে আমি খেলবো আবার খেলবো না কথাটি বলেছিলাম। ৪ বার আমি কথাটি বলেছি, কিন্তু সেটা ম্যানেজ করার জন্য না। সাকিবের মেনটালিটি কি অবস্থায় আছে সেটা জানার জন্য। আমার আসলে দায়িত্ব ছিল। সাকিব কীভাবে নিচ্ছে, একইসঙ্গে টিমমেটস। তখন আমি মিটিংয়ে টিমমেটসদের বললাম যে- দেখো আমি খেলছি।’

র আগে প্রথম পর্বের সাক্ষাৎকারে মাশরাফী বলেছিলেন, ‘ডাটাগুলো একটু বের করে দেখেন, আমার একটা ফিটনেস টেস্ট ফেল আছে কি না। আমি তো এগুলো কখনোই ক্যামেরার সামনে বলিনি। যে মানুষগুলো কথা বলছেন, তাঁদের অবদান কী? তাঁদের অবদানগুলো যদি আমি তুলে ধরি, সেটা তো খারাপ হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আরও বলেন, ‘একটা বিশ্বকাপে ৫০ জন যাচ্ছে মাশরাফীর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে। কেউ কি নিজের টাকায় গিয়েছেন? খুবই অবাক লাগে ওনারা কি আসলেই কোনো তথ্য রাখেন বা আদৌ অফিস করেন?’

সর্বশেষ যেবার বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা নাকি মাশরাফীর সঙ্গে আলোচনা করেই দেওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘না, আলোচনা করা হয়নি। কিছুটা সত্য কথা আশা করেছিলাম।’

কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর সঙ্গে কথা হয়েছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘আমাকে এক কাপ