মিয়ানমারে বিক্ষোভে গুলি, নিহত কমপক্ষে ৫০

মিয়ানমারে নিহত ৩০০ ছাড়াল, ৯০ শতাংশের মৃত্যু গুলিতে

পহেলা ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ চলছে মিয়ানমারে। সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শনিবারও ইয়াঙ্গুন, মান্দালে এবং অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। যদিও দেশটির সামরিক সরকার হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছিল যে, রাস্তায় নামলে তাদের ‘মাথা ও পিঠে’ গুলি করা হবে। তারপরও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসে।

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার দেশটিতে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হচ্ছে। এর মধ্যেই বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। তা দমন করতেই এবার নির্বিচারে গুলি চালাল মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় গণমাধ্যম এমন তথ্য দিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে স্কাই নিউজ। সবচেয়ে বেশি ১৩ জন নিহত হয়েছে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালেতে। আর নিকটবর্তী সাগেইং অঞ্চলে ৯ জন ও বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে ৭ জন নিহত হয়েছে।

এর আগে একজন বিদ্রোহী নেতা স্কাই নিউজকে জানান, সামরিক বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা অব্যাহত রাখে তাহলে মিয়ানমারের সশস্ত্র উপজাতি গ্রুপগুলো তাদের পক্ষে দাঁড়াবে না এবং কিছু করবে না।

জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এবং তাঁদের এক-চতুর্থাংশের মাথায় গুলি করা হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন দুটি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- মিয়ানমার ইকোনোমিক কো-অপারেশন ও মিয়ানমার ইকোনোমিক হোল্ডিংস লিমিটেড।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুইটিকে কালো তালিকাভুক্তির পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পদ জব্দ করেছে। এ ছাড়া এই দুই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় জড়িত থাকলে তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছিল, বিক্ষোভকারীদের দমনে এই প্রতিষ্ঠান দুটি আর্থিকভাবে বিনিয়োগ করছিল।

গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে দেশটিতে জান্তাবিরোধী তুমুল বিক্ষোভ চলছে। সেনা অভ্যুত্থানের অবসান ও দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ সামরিক বাহিনীর হাতে আটক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে রয়েছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি সাধারণ জনগণ।