৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। করোনা সংক্রমণের কারণে পরীক্ষা না নিতে পারায় শিক্ষার্থীদের এ অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছরের মতো এ বছরও ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট ও নির্ধারিত কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। আগামী শনিবার (২০ মার্চ) থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ অ্যাসাইনমেন্টের আলোকে মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। এ লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর।

মাউশি সূত্র জানান গেছে, গত বছরের মতো প্রতি সপ্তাহে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট ও নির্ধারিত কাজ দেওয়া হবে। আবার প্রতি সপ্তাহে মাউশি থেকে অ্যাসাইনমেন্ট ও নির্ধারিত কাজ দেওয়া হবে প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে অ্যাসাইনমেন্ট ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মাউশি থেকে বলা হয়েছে, অনলাইনে বা সামাজিক দূরত্ব মেনে স্কুলগুলোকে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া এবং গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থনৈতিক চাপের মুখে না পড়ে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

আগামী শনিবার (২০ মার্চ) থেকে অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু করতে হবে। অ্যাসাইনমেন্ট ও নির্ধারিত কাজ ছাড়া কোনো ধরনের পরীক্ষা বা বাড়ির কাজ শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে না।

শিক্ষকেরা যেভাবে মূল্যায়ন করবেন
অ্যাসাইনমেন্ট ও নির্ধারিত কাজ ছাড়া কোনো ধরনের পরীক্ষা বা বাড়ির কাজ শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে না। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সব মূল্যায়ন রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজের আওতায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, নির্দেশনা অনুসরণ করে নিবন্ধ, রচনা, অনুচ্ছেদ লিখন, সাহিত্য পর্যালোচনা, কেস স্টাডি, প্রজেক্ট, পরীক্ষণ, সারসংক্ষেপ, সারাংশ লিখন, মডেল, চার্ট, পোস্টার তৈরি, ছবি আঁকা, প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ সাদা কাগজে স্বহস্তে লিখে জমা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকদের। অভিভাবক বা তাঁর প্রতিনিধি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতি সপ্তাহে এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করবেন এবং জমা দেবেন। শিক্ষার্থীদের লেখায় তাঁর মৌলিক চিন্তা, কল্পনা, সৃজনশীলতা প্রতিফলিত হয়েছে কি না, শিক্ষকেরা তা বিশেষভাবে লক্ষ করবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটির অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ মূল্যায়ন করে তার সবল/দুর্বল দিকগুলো খাতায় চিহ্নিত করতে হবে। এমনভাবে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা তাঁদের সবল ও দুর্বলতার দিকগুলো বুঝতে পারেন। শিক্ষার্থীদের ‘অতি উত্তম’, ‘উত্তম’, ‘ভালো’, ‘অগ্রগতি প্রয়োজন’ ইত্যাদির মাধ্যমে অ্যাসাইনমেন্টগুলোর শাব্দিক মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে শিক্ষকদের।

এদিকে শিক্ষার্থীদের নোট-গাইড দেখে অ্যাসাইনমেন্ট করতে নিষেধ করেছে অধিদফতর। নোট-গাইড দেখে অ্যাসাইনমেন্ট করা হলে তা বাতিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে আবারও সেই অ্যাসাইনমেন্ট করে জমা দিতে হবে।

১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট দেখতে এখানে ক্লিক করুন