হিন্দু ছাত্রীকে কোরআন বিলির নির্দেশ ভারতের একটি আদালতের!

মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় এক কলেজ ছাত্রীকে ব্যতিক্রমী শাস্তি দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। ভারতের ঝাড়খণ্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক কলেজ ছাত্রী রিচা প্যাটেল ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে ওই ছাত্রীর পোস্ট মুসলিমদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হেনেছে মুসলমানদের সামাজিক সংগঠন ‘আঞ্জুমান ইসলামিয়া’-র প্রধান মনসুর খলিফা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক কলেজ ছাত্রীকে পাঁচটি কোরান কিনে একটি ইসলামিক সংগঠনে গিয়ে বিলি করতে যে নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের একটি আদালত। তবে সম্প্রতি তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আদেশে আদালত জানিয়েছে, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিশ কুমার সিং জামিনের শর্ত থেকে কোরান বিলি করার শর্তটি বাতিল করেছে। আদালত বলেছে, ১৫ই জুলাই মঞ্জুর করা জামিন আবেদনে কোরান বিলি করার যে শর্তটি জুড়ে দেয়া হয়েছিল তা পালন করার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যার কথা জানিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

দেখা যাক কী কারণে দেয়া হয়েছিল কোরান বিলির সিদ্ধান্ত?

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই ছাত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট মুসলিমদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হেনেছে – এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রিচা প্যাটেল নামের ওই ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনের শর্ত হিসাবে কোরান বিলি করার নির্দেশ দেয় আদালত। 

তবে মিজ. প্যাটেল তার বক্তব্যে বলেছেন, “একটা ফেসবুক পোস্টের জন্য অন্য ধর্মের একটি সংগঠনে গিয়ে কোরান বিলি করার নির্দেশে আমার খুবই অস্বস্তি হচ্ছে।” “আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়েও বলতে বাধ্য হচ্ছি, এটা তো আমার মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে! আমি উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছি।” “ফেসবুকে আমি আমার নিজের ধর্ম নিয়ে কিছু লিখতে পারব না? এ কোথাকার নিয়ম? তার জন্য আমার মতো একজন কলেজ ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হবে?” প্রশ্ন রিচা প্যাটেলের। তার দাবি, যে ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করার জন্য পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেটা তিনি ‘নরেন্দ্র মোদী ফ্যানস ক্লাব’ নামের একটা গ্রুপ থেকে কপি করেছিলেন। ওই পোস্টে ইসলাম-বিরোধী কোনও কথাই ছিল না বলেও তার দাবি। 
অভিযোগকারী মনসুর খলিফার অভিযোগ, রিচা প্যাটেলের ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ পোস্টের ফলে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ‘অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে’। এর ফলে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগ পেয়ে ১২ই জুলাই সন্ধ্যায় রিচা প্যাটেলকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি সহ নানা এলাকায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ওদিকে আদালতে জামিনের আবেদন জানানো হয়। রাঁচি সিভিল আদালতে জামিনের শর্ত হিসাবে বিচারক জানান যে রিচাকে পাঁচটি কোরান কিনে আঞ্জুমান কমিটি আর গ্রন্থাগারে বিলি করতে হবে, আর সেই প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ আদালতে জমা দিতে হবে।

পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরে রিচা প্যাটেলের পরিবার আর সমাজের মান্যগণ্যরা তাকে অনুরোধ করেন যে মেয়েটির বয়স মাত্র ১৯ বছর, তাই ওর ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেন বিষয়টি মিটিয়ে নেন। তারপরেই রিচা প্যাটেলের জামিনের আর বিরোধিতা করেননি মি. খলিফা। তবে আদালতের এমন ব্যতিক্রমী নির্দেশনায় বেশিরভাগ মানুষই অবাক হয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রতুল সহদেব বলেন, ‘এটি একটি আজব রায়। ভারতের ইতিহাসে এমন রায় আমি আগে কখনও শুনিনি।’ বিষয়টিকে মৌলিক অধিকার হরণ দাবি করে রিচা প্যাটেলও উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.