ইতিহাস গড়া ‘দ্য লায়ন কিং’ দেখতে চান? দেখুন কবে ও কোথায় দেখতে পারবেন!

১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটির রিমেক করেছে ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স। বাংলাদেশের দর্শকরা ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটি দেখতে পাবেন ২৬ জুলাই থেকে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন। এরইমধ্যে ভারতে দারুণ সাড়া ফেলেছে ‘দ্য লায়ন কিং’। ভারতে চারটি ভাষায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি প্রথম দিনেই আয় করেছে ১১.০৬ কোটি রুপি। ভারতজুড়ে মোট ২১৪০টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে হিন্দি, ইংরেজি, তামিল ও তেলেগু ভাষায়।
মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’র রেকর্ড (১০.৬ কোটি রুপি) ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপি মুক্তির প্রথম দিনের উপার্জনের হিসাবে ডিজনির ক্লাসিক সিনেমা ‘দ্য জাঙ্গল বুক’ (১১.৬ মিলিয়ন ডলার) এবং ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’কে (১২.৪ মিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে ‘দ্য লায়ন কিং’ (১৪.৫ মিলিয়ন ডলার)। ছবির হিন্দি ভার্সনে থাকছেন বলিউডের কিং খান শাহরুখ। ‘লায়ন মুফাসা’ হবেন শাহরুখ খান আর লায়ন মুফাসার ছেলে, মূল চরিত্র ‘লায়ন সিম্বা’ হবেন শাহরুখের ছেলে আরিয়ান খান। তবে তাদেরকে দেখা যাবে না। কারণ, মুফাসা আর সিম্বার চরিত্রে কণ্ঠ দেবেন শাহরুখ আর জুনিয়র শাহরুখ।

২৫ বছর পর হলিউডের পর্দায় ফিরে এসেছে ‘দ্য লায়ন কিং’। ওয়াল্ট ডিজনির ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালের ১৫ জুন। এই মিউজিক্যাল-অ্যানিমেশন ছবির বাজেট ছিল ৩৮০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বক্স অফিস থেকে ছবিটি তখন আয় করেছে ৮ হাজার ১৯২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় স্থান করে নেয় ৮৮ মিনিটের ‘দ্য লায়ন কিং’। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় চলচ্চিত্র নিবন্ধন ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’-এ ছবিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ‘দ্য লায়ন কিং’ ছবি সম্পর্কে তখন মন্তব্য করা হয়, ‘সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও শৈল্পিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।’ ছবিটি পেয়েছে দুটি অস্কার।

দারুণ সফল ছবিটি আবার রিমেক করেছে ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স। ১১৮ মিনিটের এই ছবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছে এ বছর ১৯ জুলাই। এবার ছবিটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৯৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আয় করেছে ছবিটি।

ছবিটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মুহুর্ত হচ্ছে, জঙ্গলের রাজা মুফাসা। তার ভাই স্কার খলনায়ক। রাজা না হতে পেরে সে নানা ফন্দি করে। হায়েনার দলের সঙ্গে মিশে মুফাসাকে হত্যা করে। আর মুফাসার মৃত্যুর জন্য দায়ী করে ছেলে সিম্বাকে। ছোট্ট সিম্বা পালিয়ে যায়। তার পেছনে ছুটছে হায়েনার দল। এবার সিম্বাকে হত্যা করতে চায় স্কার। উঁচু পাহাড়ের থেকে পড়ে যায় সিম্বা। সিম্বা মারা গেছে, এই ভেবে হায়েনার দল ফিরে যায়। কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পেলেও সিম্বা মরুভূমিতে গিয়ে জ্ঞান হারায়। শকুনেরা যখন ঘিরে ধরে, তখন তাকে উদ্ধার করে ‘পুম্বা’ (শূকর) আর ‘টিম্বা’ (মিরক্যাট)। ছোট্ট সিম্বাকে তারা দত্তক নেয়।

এরপর প্রশ্ন তৈরি হয়, সিম্বা কি জঙ্গলের রাজা হতে পারবে? চাচা স্কারের মুখোমুখি হতে হবে তাকে। এ সময় সিম্বা বাবাকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারবে? কারণ তার সামনে আছে বাবা মুফাসার উপদেশ, ‘সত্যিকারের রাজা কখনো ভাবে না সে কী কী পেতে পারে বা ছিনিয়ে নিতে পারে, কিংবা দখল করতে পারে। সত্যিকারের রাজা ভাবে, সে কী কী দিতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *