আজ সাকিবের সামনে যে তিনটি রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে

সাকিব আল-হাসান (জন্ম: ২৪ মার্চ ১৯৮৭) একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক। তিনি বামহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার। সাকিব বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁর খেলার মান আর ধারাবাহিকতা তাঁকে নিয়ে গেছে এক নতুন উচ্চতায়, হয়েছেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একজন খেলোয়াড়-“দ্য ওয়ান ম্যান আর্মি”। এছাড়াও তাঁর রয়েছে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হওয়ার কৃতিত্ব।
প্রসঙ্গ যখন বাংলাদেশের ক্রিকেট, সেখানে সাকিব আল হাসানের নাম নিঃসন্দেহে চলে আসবে একদম শুরুতেই। আগ্রাসী একজন বাঁহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান, কৌশলী বাঁহাতি স্পিনার, কিংবা তর্কসাপেক্ষে অন-দ্য-ফিল্ড এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সেরা ফিল্ডার‍। কোথায় নেই সাকিব! সাকিব আল হাসান এবার বিশ্বকাপে যাচ্ছেন বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবেই।
প্রথম রেকর্ডটি অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিবের শ্রেষ্ঠত্বের বড় একটি প্রমাণ হয়েই থাকবে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০০০ রান ও ২৫০ উইকেটের ‘ডাবল’ আছে মাত্র চারজন ক্রিকেটারের। আবদুল রাজ্জাক, জ্যাক ক্যালিস, শহীদ আফ্রিদি ও সনাথ জয়াসুরিয়ার পর পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইলফলক গড়তে সাকিবের দরকার মাত্র একটি উইকেট।
কাঙ্ক্ষিত উইকেটটি পেয়ে গেলে বাকি চারজনকেও পেছনে ফেলে দেবেন সাকিব। মাত্র ১৯৭ ম্যাচ খেলেই ৫ হাজার ৬৬৭ রান ও ২৪৯ উইকেটের মালিক হয়ে গেছেন সাকিব। এর আগে যে চারজন ক্রিকেটার এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন, তাঁদের কেউই ২০০ ম্যাচের আগে সেটি ছুঁতে পারেননি। দ্রুততম হিসেবে ২৫৮ ম্যাচে এই ‘ডাবল’ অর্জন করেছিলেন পাকিস্তানের আবদুল রাজ্জাক। আফ্রিদি করেছিলেন ২৭৩ ম্যাচে, ক্যালিস ২৯৬ ম্যাচে ও জয়াসুরিয়া করেছিলেন ৩০৪ ম্যাচে। চারজনকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে কম ম্যাচে বিরল এই ‘ডাবল’ অর্জন করা তাই সাকিবের জন্য এখন সময়ের ব্যাপার।
দ্বিতীয় রেকর্ডটি করার জন্য সাকিবের শুধু মাঠে নামাই যথেষ্ট। বিশ্বকাপের আগে আগেই রশিদ খানকে হটিয়ে ওয়ানডেতে অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন। এর আগে ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপেও সাকিব খেলেছিলেন এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে। ইতিহাসে এর আগে কোনো ক্রিকেটার শীর্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে টানা ৩টি বিশ্বকাপ খেলেননি। কাল মাঠে নামলে সাকিবই তাই হবেন র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে ৩টি বিশ্বকাপ খেলা একমাত্র ক্রিকেটার।
গত বছর প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সব সংস্করণের ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মালিক হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। প্রিয় বন্ধু তামিমের (১২ হাজার ৫১৯) পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এবার সেই মাইলফলক ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন সাকিব। সে জন্য সাকিবকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করতে হবে মাত্র ৫ রান। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এখন সাকিবের মোট রান ১০ হাজার ৯৯৫। আজকের ম্যাচে ব্যাট হাতে অন্তত ৫ রান ও বোলিংয়ে ১ উইকেট পেলে তিনটি রেকর্ডই একসঙ্গে করে ফেলবেন সাকিব। পারবেন কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.