গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যানুয়াল ক্যাম্পাস ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ইভাকুয়েশন ড্রিল ২০২৬’ অনুষ্ঠিত
গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আজ ‘অ্যানুয়াল ক্যাম্পাস ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ইভাকুয়েশন ড্রিল ২০২৬’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির প্রথম পর্বে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন (নৌবাহিনী) এস. এম. সালাহউদ্দিন, এনজিপি, পিএসসি (অব.)। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ সেশনে তিনি অগ্নিকাণ্ডের সাধারণ কারণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মশালার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. মাহফুজার রহমান বিভিন্ন ধরনের ফায়ার এক্সটিংগুইশার, সেগুলোর ব্যবহার, কার্যকারিতা এবং সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। এ সেশনটি অংশগ্রহণকারীদের অগ্নি প্রতিরোধ ও অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়ে জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিশেষভাবে গ্যাস চুলা থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা, ভেজা কম্বল ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ নিরাপদভাবে বিচ্ছিন্নকরণ এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে ব্যবহারিক প্রদর্শনী করা হয়। পাশাপাশি পানি ব্যবহার করে অগ্নিনির্বাপণ পদ্ধতিও প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তীতে একটি জরুরি নির্গমন মহড়া পরিচালিত হয়, যেখানে অগ্নি সতর্ক সংকেত বাজানো এবং ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভবন ত্যাগের প্রক্রিয়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়ায় আহত বা অসুস্থ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের পদ্ধতিও দেখানো হয়।
কর্মশালায় বক্তব্য প্রদান করেন গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ এবং রেজিস্ট্রার। তাঁরা বলেন, নিয়মিত অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও ইভাকুয়েশন ড্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সকলের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে ট্রেজারার, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহায়ক কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন এবং প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যাতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় করা যায়।







