পেলের মতে, এমবাপ্পের চেয়ে ভালো নেইমার!

২০ বছর পর ফ্রান্সকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ ফুটবল ট্রফি । রাশিয়া বিশ্বকাপে দ্যুতি ছড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তার সে পারফরম্যান্স এখনও চলছে। শুধু তাই নয়, দুর্দান্ত পারফরমের বদৌলতে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে অনেকটাই ম্লান ছিলেন ব্রাজিলের সুপাস্টার নেইমার
এবং তিনি ব্রাজিলের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডিও পার করতে পারেননি। বর্তমানে ক্লাব ফুটবলেও ব্রাজিল নেইমারকে টেক্কা দিচ্ছেন ফরাসি কিলিয়ান এমবাপ্পে। বর্তমানে অনেকেই নেইমারের সাথে কিলিয়ান এমবাপ্পের তুলনা করছে। তবে, নেইমারকেই এগিয়ে রাখছেন ব্রাজিলের রাজপূত্র পেলে। ব্রাজিলীয় কিংবদন্তির মতে, এমবাপ্পের চেয়ে ভালো তার দেসীয় উত্তরসূরি। অন্যদিকে সান্তোসে আলো ছড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে চমক তৈরি করা নেইমার জাতীয় দলেও সমান দক্ষ।  শুরুতেই দেশকে কনফেডারেশন কাপ জিতিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ অলিম্পিক গোল্ডও জিতিয়েছেন। ফুটবল প্রতিভা হিসেবে প্রশংসাও অর্জন করলেও সমালোচনা কুড়িয়েছেন। আর তার কারণ মাঠে অযাচিত গড়াগড়ি

বিশ্বকাপে খুব একটা খারাপ করেননি নেইমার। ব্রাজিলকে শেষ আটে তুলতে মূখ্য ভূমিকা রাখেন । তবে প্রতিপক্ষ দলগুলোর রক্ষণসেনাদের সামান্য ট্যাকলে বারবার পড়ে গিয়ে ফাউলের আবেদন করায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। রীতিমতো তাকে ধুয়ে দেন সমালোচকরা।

এ প্রসঙ্গে পেলে বলেন, আসলে যেটা হয়েছে; “নেইমারকে প্রচুর দুয়োধ্বনি সহ্য করতে হয়েছে। একজন ফুটবলারের পক্ষ্যে এত সমালোচনা সহ্য করা কঠিন। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর সামর্থ্য সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি”। পেলে আরও বলেন, সে (নেইমার) দুর্ভাগা। কারণ, ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। দোরগোড়ায় গিয়ে ছিটকে গেছে। ইউরোপে তার সঙ্গে দুইবার সাক্ষাত করেছি। তাকে বলেছি, ফুটবল দেবতা তোমাকে অনন্য স্কিল দিয়েছেন। সেটার সদ্ব্যবহার কর। অপরদিকে বিশ্বকাপ রাঙিয়ে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১৯৫৮ সালে পেলের পর সবচেয়ে তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দুই গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। ফুটবল রাজার পর সবচেয়ে কম বয়সে ফাইনালি লড়াইয়েও গোল করার নজির গড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

পেলে মনে করেন, এমবাপ্পের চেয়ে ভালো নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং তিনবার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার বলেন, ফরাসি তরুণ যাই করুক না কেন, যাই করে দেখাক না কেন, তার চেয়ে আমার স্বদেশী ভালো। সে পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার। তবে ইউরোপিয়ানরা ১৯ বছরের বিস্ময়কে এগিয়ে রাখেন। তবে নেইমারের ব্রাজিলীয় সতীর্থ দানি আলভেস মনে করেন, এমবাপ্পের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন নেইমার। এমবাপ্পে ও নেইমারের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে আলভেস বলেন, ‘এমবাপ্পে ও নেইমার দুই ধরনের বলে আমার বিশ্বাস। এমবাপ্পে একদিন ঐতিহাসিক পর্যায়ে যাবে, তবে নেইমার সেখানে এরই মধ্যে পৌঁছেছে বলে আমার বিশ্বাস। এমবাপ্পে এখনো সেই অবস্থার জন্য তৈরি হচ্ছে। তবে এমবাপ্পে চালাক এবং সে নেইমারের কাছ থেকে শেখার সুযোগ হাতছাড়া করবে না। আমি এটি বলছি, কারণ নেইমার বার্সেলোনায় মেসির কাছ থেকে শিখেছে। এই শিক্ষার বিষয়টা শেকলের মতো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *